সর্বশেষ

2/recent/ticker-posts

জাবরিয়া ফির্কা

জাবরিয়া ফির্কা

ফির্কার নামঃ জাবরিয়া
সংকলনেঃ মোহাম্মাদ ইস্রাফিল হোসাইন
কাদরিয়া সম্প্রদায় কদর বা ভাগ্য বিশ্বাস করেনা আর জাবরিয়াদের আকিদা কাদরিয়াদের আকিদার সম্পূর্ণ বিপরীততাদের মতে বান্দার ইচ্ছাধীন কোনো কাজ করতে পারেনা, বরং আল্লাহ তা'য়ালা বান্দাদের কর্মসমূহ পূর্বেই নির্ধারন করে রেখে দিয়েছেন। মানুষর ইচ্ছার কোন দখন নেই। সকল জিনিসই আল্লাহর হুকুমের কাছে অনুগত কাজেই কোন জিনিসই আল্লাহর ইচ্ছায় পরিবর্তন করতে পারে না। মহান আল্লাহ যেহেতু ভবিষ্যৎ জানেন কাজেই ভবিষ্যতের সকল কাজ কর্ম আল্লাহন ইচ্ছা অনুযাই সাজান আছে। তাদের বিশ্বাস, মানুষের ভাল বা মন্দ করার কোন ক্ষমতা নেই। আল্লাহই তাকে ভাল বানান এবং আল্লাহই তাকে মন্দ বানান। এতে তার ইচ্ছার কোন মূল্য নেই। তাদের এই আকিদা কুরআন বিরোধী। কারন মহান আল্লাল বলেন,
 وَٱلَّذِى قَدَّرَ فَهَدَىٰ (٣
অর্থ: যিনি তাকদীর গড়েছেন তারপর পথ দেখিয়েছেন৷ (সুরা আলা ৮৭:০৩)
 إِنَّا هَدَيۡنَـٰهُ ٱلسَّبِيلَ إِمَّا شَاكِرً۬ا وَإِمَّا كَفُورًا (٣
অর্থ: আমি তাকে রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছি৷ এরপর হয় সে শোকর গোজার হবে নয়তো হবে কুফরের পথ অনুসরণকারী৷  (সুরা দাহর ৭৬:৩)
মহান আল্লাহর পরিস্কার ঘোষনা যে, তিনি মানুষ কে শুধু জ্ঞান ও বিবেক বুদ্ধি দিয়েই ছেড়ে দেইনি। বরং এগুলো দেয়ার সাথে সাথে ভাল মন্দ বুঝার জ্ঞান দান করেছের । তাকে পথও দেখিয়েছে যাতে সে জানতে পারে শোকরিয়ার পথ কোনটি এবং কুফরীর পথ কোনটি। এবং এ পথ বাচাই করার ক্ষমতা তকে দিয়েছেন। এরপর যে পথই সে অবলম্বন করুক না কেন তার জন্য সে নিজেরই দায়ী।
সূরা শামসে বিষয়টি বর্ণনা করা হয়েছে
 فَأَلۡهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقۡوَٮٰهَا (٨
অর্থ: আর পাপাচার ও তাকওয়া-পরহেজগারীর (অনুভূতি দু"টোই তার ওপর) ইলহাম করেছেন।" (সূরা শামস ৯১:০৮)
তাকদির নির্দিষ্ট হলেও কুরআনের এসব আয়াতে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করলে সহজেই বুঝতে পারবে যে আল্লাহ মানুষকে ভাল-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় বুঝা বা করার ক্ষমতা দান করছেন। তাকে ভাল মন্দ কাজ করার স্বাধীণতা দান করা হইয়াছে।
মানুষের ভাল-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় করার ক্ষমতা নাই জাবরিয়া সম্প্রদায়ের এ দাবি একদিকে যেমন বাস্তবতা বিরোধী, তেমন কুরআন ও হাদীস বিরোধীও। মানুষকে আল্লাহ তাআলা ভাল-মন্দ উভয়টা করার স্বাধীনতা দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। আর এটাই বাস্তবতা। এ বিষয়টিই সূরা বালাদে এভাবে বর্ননা করা হয়েছে
 وَهَدَيۡنَـٰهُ ٱلنَّجۡدَيۡنِ (١٠
অর্থ: আমি কি তাকে দুটি সুস্পষ্ট পথ (অর্থাৎ ভাল ও মন্দ পথ) দেখাইনি? (সুরা বালাদ ৯০:১০)
শুধুমাত্র বুদ্ধি ও চিন্তার শক্তি দান করে তাকে নিজের পথ নিজে পথ নিজে খুঁজে নেবার জন্য ছেড়ে দেইনি। বরং তাকে পথ দেখিয়ে দিয়েছি। তাকে পথ দেখানোর জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠিয়েছি। তার সামনে ভাল ও মন্দ দিয়েছি এবং তার মধ্য থেকে সে নিজ দায়িত্বে যে কোন পথ ইচ্ছা গ্রহণ করতে পাবে নতুবা পৃথিবীর কোন অপরাধের বিরুদ্ধে আল্লাহ শাস্তিমূলক আইন ও ব্যবস্থার নাজিল করতেন নাপরকালেও শাস্তির দেওয়া থেকে বিরত থাকতন একটি সহিত হাদীসে এসেছে, প্রত্যেক মানব সন্তান ইসলামকে গ্রহণ করার প্রকৃতি নিয়ে জন্মলাভ করে। কিন্তু তার পিতা-মাতা তাকে ইয়াহুদী, খৃস্টান ও অগ্নিউপাসক (প্রভৃতি) বানায়। (বুখারী ও মুসলিম)
মানুষ কে ভাল-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় করার ক্ষমতা না দিলে, এই হাদিসের যথার্ততা খুজে পাওয়া যাবে না।   



জাবরিয়াদের ভাগসমুহ: জাবরিয়াদের সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
(১) খালেস জাবরিয়া বা কট্ররপন্থী জাবরিয়া্
(২)জাবরিয়া মুতাওয়াস্সিতা বা মধ্যপন্থী জাবরিয়া
খালেস জাবরিয়া বা কট্ররপন্থী জাবরিয়া : এরা তাদের আকিদার ব্যপারে খুবই কট্ররপন্থী। তারা মনে করে মানুষ ও জড় বস্তুর মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আল্লাহ মানুষকে ভাল-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় করার কোন ক্ষমতা দান করেন নাই। যা কিছু হচ্ছে তা তাকদির দ্বারা নির্ধারিত। তাকে ভাল মন্দ কাজ করার স্বাধীণতা দান করা হয় নাই।
জাবরিয়া মুতাওয়াস্সিতা বা মধ্যপন্থী জাবরিয়া: এদের আকিদা হল আল্লাহ মানুষকে ভাল-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় করার কোন ক্ষমতা দান করেছেন কিন্তু তাদের কর্মের কোন ফলই ভাগ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে না।

জাবরিয়া সম্প্রদায়ের লোকেরা বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত। ইসলামী আকিদা ও ভ্রান্ত মতবাদ গ্রন্থে কারী মুহম্মদ তৈয়র সাহের হাওলাদিয়ে তাদের বারটি উপদলের কথা উল্লেখ করেছেন।

জাবরিয়া সম্প্রদায়ের ভ্রান্ত আকীদা সমূহ ও তা খন্ডনঃ
 মানুষ পাথর ও জড়পদার্থের মতো নিস্ক্রীয় বা বাধ্যবাধকতার আওতাধীন। যাদের কর্মে কোনো ইচ্ছা স্বাধীনতা নেই। ফলে তাদের ছওয়াব বা শাস্তি কোনো কিছুই হবেনা অথচ কুরআনে মহান আল্লাহ সৎকর্মশীলদের পুরস্কার এবং আল্লাহ বিধান অস্বীকার পাপিকে আযাব দানের অসংখ্যা ঘোষনা সম্বলিত আয়াত আছে। এখানে তারই অংশ হিসাবে একটু নমুনা পেশ করা হল। মহান আল্লাহ বলেন,
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّـٰلِحَـٰتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجۡرَ مَنۡ أَحۡسَنَ عَمَلاً (٣٠)
অর্থ: তবে যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করবে, সেসব সৎকর্মশীলদের পুরস্কার আমি কখনো নষ্ট করি না৷ (সুরা কাহাফ ১৮:৩০)।
ڪَلَّا‌ۚ سَنَكۡتُبُ مَا يَقُولُ وَنَمُدُّ لَهُ ۥ مِنَ ٱلۡعَذَابِ مَدًّ۬ا (٧٩وَنَرِثُهُ ۥ مَا يَقُولُ وَيَأۡتِينَا فَرۡدً۬ا (٨٠وَٱتَّخَذُواْ مِن دُونِ ٱللَّهِ ءَالِهَةً۬ لِّيَكُونُواْ لَهُمۡ عِزًّ۬ا (٨١)
অর্থ: তারপর তুমি কি দেখেছো সে লোককে যে আমার আয়াতসমূহ মেনে নিতে অস্বীকার করে এবং বলে আমাকে তো ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দান করা হতে থাকবেই। সে কি গায়েবের খবর জেনে গেছে অথবা সে রহমানের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়ে রেখেছে। কক্ষনো নয়, সে যা কিছু বলছে তা আমি লিখে নেবো৷ এবং তার জন্য আযাবের পসরা আরো বাড়িয়ে দেবো৷ (সুরা মরিয়ম ১৯: ৭৯-৮১)।

তাদের আকিদা সম্পদ আল্লাহর নিকট প্রিয় বস্তু। অথচ মহান আল্লহই সকল সম্পদসহ বিশ্বজাহানের একক সৃষ্টিকর্তা ও মালিক। মহান আল্লাহ তার নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে বলেন,
 إِنَّمَآ أَمۡرُهُ ۥۤ إِذَآ أَرَادَ شَيۡـٴً۬ـا أَن يَقُولَ لَهُ ۥ كُن فَيَكُونُ (٨٢)
অর্থ: তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তাঁর কাজ হয় কেবল এতটুকু যে, তিনি তাকে হুকুম দেন, হয়ে যাও এবং তা হয়ে যায়৷ (সুরা ইয়াসিন ৩৬:৮২)। 
 তারা শারিরীক মিরাজকে অস্বীকার করে। অথচ কুরআনে স্বয়ং মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেন,
سُبۡحَـٰنَ ٱلَّذِىٓ أَسۡرَىٰ بِعَبۡدِهِۦ لَيۡلاً۬ مِّنَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ إِلَى ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡأَقۡصَا ٱلَّذِى بَـٰرَكۡنَا حَوۡلَهُ ۥ لِنُرِيَهُ ۥ مِنۡ ءَايَـٰتِنَآ‌ۚ إِنَّهُ ۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ (١)
অর্থ: পবিত্র তিনি যিনি নিয়ে গেছেন এক রাতে নিজের বান্দাকে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্‌সা পর্যন্ত, যার পরিবেশকে তিনি বরকতময় করেছেন, যাতে তাকে নিজের কিছু নিদর্শন দেখান৷আসলে তিনিই সবকিছুর শ্রোতা ও দ্রষ্টা৷ (সুরা বনি ঈসরাইল ১৭:০১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সশরীরে মিরাজের সফর করেছিলেন তার প্রমানের জন্য কুরআন মজীদের এই একটি আয়তই যথেষ্ট।
তারা রূহানী জগতে আল্লাহ কর্তৃক অঙ্গীকির গ্রহনের বিষয়কে অস্বীকার করে। তারা জানাযা নামাজ ওয়াজীব হওয়াকে অস্বীকার করে। অথচ রূহানী জগতে আল্লাহ কর্তৃক অঙ্গীকির গ্রহনের বিষয়কে স্বয়ং মহান আল্লাল বলেন,
 وَإِذۡ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِىٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمۡ ذُرِّيَّتَہُمۡ وَأَشۡہَدَهُمۡ عَلَىٰٓ أَنفُسِہِمۡ أَلَسۡتُ بِرَبِّكُمۡ‌ۖ قَالُواْ بَلَىٰ‌ۛ شَهِدۡنَآ‌ۛ أَن تَقُولُواْ يَوۡمَ ٱلۡقِيَـٰمَةِ إِنَّا ڪُنَّا عَنۡ هَـٰذَا غَـٰفِلِينَ (١٧٢
অর্থ: আর হে নবী! লোকদের স্মরণ করিয়ে দাও সেই সময়ের কথা যখন তোমাদের রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করিয়েছিলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলেছিল, নিশ্চয়ই তুমি আমাদের রব, আমরা এর সাক্ষ দিচ্ছি৷এটা আমি এ জন্য করেছিলাম যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা না বলে বসো, আমরা তো একথা জানতাম না ৷  (সুরা আরাফ ৭:১৭২)।
সংকলনেঃ মোহাম্মাদ ইস্রাফিল হোসাইন

Post a Comment

0 Comments