#সংসয়_সিরিজ-১২
*কালোজিরা!কালোজিরা!! কালোজিরা!!!😊😊😉😉😉😉মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের প্রতিষেধক!
“মোহাম্মাদ তো বলেছেই যে, কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ।যাদের ক্যান্সার এবং সাথে হার্টের রোগ আছে, সেহেতু কালোজিরা খেলেই তো আর কোন চিকিৎসার দরকার হয়না।”
“কালোজিরা যেহেতু সকল রোগের ঔষধ। তাই কালোজিরাতেও ক্যান্সার ঠিক হবার কথা।কিন্তু আসলে হচ্ছে কি??"
বিশ্লেষন:কিছু বিপরীতধর্মী রোগ আছে। যেমন- উচ্চ-রক্তচাপ এবং নিম্ন-রক্তচাপ। এরা একে অপরের বিপরীত অবস্থা। উচ্চ-রক্তচাপে এমন ঔষধ দেওয়া হয় যা ব্লাড প্রেশার কমায়। এদের বলা হয় এন্টি-হাইপারটেনসিভ ড্রাগ। পক্ষান্তরে নিম্ন-রক্তচাপে এমন ঔষধ দেওয়া হয় যা ব্লাড প্রেশার বাড়ায়। এদের বলা হয় এন্টি-হাইপোটেনসিভ ড্রাগ। উচ্চ-রক্তচাপ আছে, এমন ব্যক্তিকে যদি এন্টি-হাইপোটেনসিভ ড্রাগ দেওয়া হয়, তাহলে তার প্রেশার আরও বৃদ্ধি পেয়ে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিসে ভুগবে। একইভাবে, নিম্ব-রক্তচাপ আছে, এমন ব্যক্তিকে যদি এন্টি-হাইপারটেনসিভ ড্রাগ দেওয়া হয়, তবে তার প্রেশার ক্রমশ নেমে Shock-এ চলে যেতে পারে। এভাবে ডায়রিয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য, হাইপোথাইরয়ডিজম-হাইপারথাইরয়ডিজম ইত্যাদি সহ পরস্পর বিপরীতধর্মী সকল অসুখের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং, একই ঔষধ কখনো পরস্পর বিপরীতধর্মী উভয় অসুখে ব্যবহার করা যাবে না। এই সূত্র অনুযায়ী, কালোজিরাসহ যে কোন কিছুই একই সাথে পরস্পর বিপরীতধর্মী দুটো অসুখে ব্যবহার করা যাবে না। সুতরাং ‘মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা - নবী মোহাম্মদের এমন দাবি সম্পূর্ণই মিথ্যে বা ভুয়া”
#⃣ হাদীসের কুল্লুন শব্দের অৰ্থ।মৃত্যু কোন রোগ?#⃣
“আপনাদের সমস্যা আছে। যেখানে সমস্যা আছে সেটা হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কালোজিরা সকল রোগের ঔষধ, মৃত্যু ব্যতীত।[৩] এখানে সকল শব্দটি আরবি যে শব্দের অনুবাদ, সেটি হলো- কুল্লুন(كُلٌّ )। প্রখ্যাত এরাবিক ডিকশনারি লিসান আল আরবে আছে যে, ‘কুল্লুন(كُلٌّ )’ শব্দটির অর্থ ‘সকল’ বা কোন কোন ক্ষেত্রে ‘কিছু’ অর্থাৎ ‘مَعَنَى الْبَعَضْ’।[৪] আবার আল-ফিকহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ নামক একটি গ্রন্থে বলা হয়েছে, এখানে ‘কুল্লুন’ শব্দটি ‘আধিক্য’ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। সহিহ বুখারীর এই হাদিসের টীকায় বলা আছে, যদিও এই হাদিসে ‘مِنْ كُلِّ دَاءٍ’ বা ‘সকল রোগের ঔষধ’ কথাটি ‘ব্যাপক’ কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য ‘খাস’ বা ‘নির্দিষ্ট’।[৫] তাহলে বোঝা যাচ্ছে যে, এই হাদিসে ‘সকল রোগের ঔষধ’ বলতে একদম পৃথিবীতে যত রোগ আছে, সকল রোগের ঔষধের কথা বলা হয়নি বরং নির্দিষ্ট প্রকারের বিভিন্ন রোগের কথা বলা হয়েছে। এটাই অধিকাংশ আলিমদের মত।[৫.১] আর কুর’আন এবং হাদিসের আমি বা আপনি নিজের মতো করে পড়ে অর্থ বুঝলে হবেনা। আমাদের পূর্ববর্তী ‘আলিমগণ বা সালাফরা যেভাবে বুঝেছেন সেভাবেই বুঝতে হবে। কিন্তু এই কালোজিরা যেহেতু অনেক ধরনের রোগের ঔষধ বা নিরাময়,[৬] সেহেতু জোর দিয়ে বুঝাতে ‘মৃত্যু ব্যতীত’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ আপনি জানেন যে, মৃত্যু কোন রোগ নয়।”
যেমন ধরুন,“আপনার/আমার বাপ্পি নামের এক ফ্রেন্ড। ও এত পরিমাণ খায় যে আমরা বলতাম, ‘বাপ্পি পলিথিন বাদে সব খায়।’ কিন্তু আসলে কিন্তু ও লোহা বা খাবারের মধ্যেই অনেক কিছুই খেত না। কিন্তু তবুও আমরা বলি। সুতরাং, আমরা ‘সব’ শব্দটি অনেকসময় আধিক্য বুঝাতে ব্যবহার করি। এই হাদিসেও ‘কুল্লুন’ শব্দটির অর্থ একদম ডেফিনেটলি ‘সকল’ বুঝায় নাই।”
🎲🎲সিদ্ধান্ত:
আরবীতে কুললুন শব্দের একাধিক অর্থের ব্যাবহার আছে।সুতরাং এক অর্থের উপর ভিত্তি করে ভুল বলাটা বোকামি।
#⃣#⃣অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন এত এত কিছু উপকার থাকার পরও কেন মুসলিমরা চিকিৎসা গ্রহণ করেনি??#⃣#⃣
“কখনো হকারের কাছ থেকে লাল লাল ট্যাবলেট কিনেছেন? যেটা ওরা সব রোগের ঔষধ বলে বিক্রি করে! ভিজিটও লাগে না। আর ঐ ট্যাবলেট খেলেই সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা সব জাদুর মতো ঠিক হয়ে যায়।”
কিন্তু অন্যদিকে আপনার দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের শরীরে যখন কোন জীবাণু প্রবেশ করে তখন আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। তখন সর্দি, কাশি বা জ্বর আসতে পারে। আপনি যে লাল ট্যাবলেট গুলো মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার করেন, সেগুলোতে স্টেরয়েড নামক একটি পদার্থ থাকে। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘটনাগুলো বন্ধ করে দেয়। এজন্য আপনার সর্দি, কাশি হয় না। আর এটি ব্যথা সৃষ্টিকারী একটি কেমিক্যাল বা প্রোস্টাগ্লান্ডিনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এজন্য আপনি ব্যথাও অনুভব করেন না। জীবাণুর প্রতি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেক রোগ হয়। তখন স্টেরয়েড দিয়ে এই প্রতিক্রিয়া বন্ধ করে দিলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এজন্য ডাক্তাররা অনেক রোগের লাস্ট লাইন ট্রিটমেন্ট হিসেবে স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। প্রথমে ব্যবহার করেন না। কারণ স্টেরয়েড বহুদিন ব্যবহারে আমাদের দেহের প্রচুর ক্ষতি হয়। যেহেতু এটি প্রচুর রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, তাই একেও সকল রোগের ঔষধ বলে চালানো হয়।[২] কিন্তু তাই বলে পৃথিবীতে যত রোগ আছে, স্টেরয়েড যে সব ঠিক করে দিবে এমন নয়। স্টেরয়েডের কার্যক্ষমতার আধিক্যের কারণেই এমন বলা হয়।"
#⃣#⃣কালোজিরা এমন কি জিনিস যে বিপুল পরিমাণ রোগ ভাল হবে? সর্দি-কাশি ছাড়া আর কিছু ভাল হয় বলে তো মনে হয় না।”#⃣#⃣
“তাহলে আসেন প্রথমে ক্যান্সারের ট্রিটমেন্টে কালোজিরার উপকারিতা আলোচনা করি। ক্যান্সার বলতে সাধারণত একটি কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন এবং এবং অন্যত্র ছড়িয়ে পড়া বা মেটাস্ট্যাসিসকে বুঝায়। যদি কোন উপাদান যদি কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন এবং মেটাস্ট্যাসিস বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে সেটাই ক্যান্সারের জন্য উপকারী ঔষধ।
ইচ্ছে “ইসলাম তো চিকিৎসা করাতে নিষেধ করে না। বরং আরও উদ্বুদ্ধ করে। আধুনিক চিকিৎসা করাতেও নিষেধ নেই।[১]
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কালোজিরাতে থাইমোকুইনোন নামক একটি উপাদান রয়েছে যেটি একটি ক্যান্সার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন এবং মেটাস্ট্যাসিস বন্ধ করে। সাথে সাথে এটি এপোপটোসিস প্রক্রিয়ার ক্যান্সার কোষটিকে নষ্ট করতেও সাহায্য করে।[৭] বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, এই থাইমোকুইনোন এবং এর অনুরূপ কেমিক্যাল ভবিষ্যতে অন্যান্য কেমোথেরাপিক ড্রাগের সাথে তারা ব্যবহার করতে পারবেন।[৮]
#⃣#⃣রাসূলুল্লাহ ﷺ কি তাহলে কালোজিরা খেতে বলে ভুল করেছেন?”#⃣#⃣
“গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে, কালোজিরার থাইমোকুইনোন উপাদানটি ব্লাড প্রেশার কমায়। আবার বিভিন্ন হার্টের রোগেও থাইমোকুইনোনের কার্যকারিতা রয়েছে।[৯] আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীতে প্রায় ৩৪৭ মিলিয়ন মানুষের ডায়াবেটিকস আছে এবং এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আমাদের দেহে ‘অগ্নাশয়’ নামক একটি অঙ্গ আছে। অগ্নাশয়ে ‘বিটা কোষ’ নামক কিছু কোষ আছে। এই কোষ থেকে ‘ইনসুলিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিকস দুই ধরনের। টাইপ ১ এবং টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়াবেটিকস হয় বিটা কোষ নষ্ট হয়ে গেলে। এক্ষেত্রে বিটা কোষ ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে না। তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার টাইপ ২ ডায়াবেটিকস হলে বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ ঠিক থাকে কিন্তু কোষে ইনসুলিন ঠিকমতো ঢুকতে পারেনা। এজন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও কমে না। ধারণা করা হয়, অনেক কারণের মধ্যে এটিও একটি কারণ যে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে অগ্নাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যেতে পারে বা বিটা কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন টাইপ ১ ডায়াবেটিকস হয়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কালোজিরায় উপস্থিত থাইমোকুইনোন এন্টি আক্সিডেন্টের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এতে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের আশংকা কমে যায়।[১০] আবার টাইপ ২ ডায়াবেটিকস এর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, সাধারণ ঔষধ থেকে কালোজিরার কর্মক্ষমতা বেশি।[১১] তাহলে রাসূলুল্লাহ ﷺ কি কালোজিরা খেতে বলে ভুল করেছিলেন?”
“পৃথিবীতে বর্তমানে ভাইরাস, ছত্রাক, ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ঘটে, এমন রোগের সংখ্যা অসংখ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কালোজিরায় উপস্থিত উপাদান গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ইস্ট ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়োটিক সেবনের ফলে খুব দ্রুত এন্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, কালোজিরার থাইমোকুইনোন পরবর্তীতে এন্টিবায়োটিক হিসেবে তারা ব্যবহার করতে পারবেন।[১২] আবার কিডনির বিভিন্ন সমস্যায় থাইমোকুইনোনের উপকারিতা পাওয়া গিয়েছে।[১৩] এছাড়াও প্রদাহজনিত প্রচুর সমস্যায় থাইমোকুইনোন উপকারী, যেটা কালোজিরায় থাকে।[১৪] অধিক পরিমাণ প্যারাসিট্যামল একবারে খেলে এর নেফ্রো-টক্সিসিটি হয়। কালোজিরায় উপস্থিত উপাদান থাইমোকুইনোনের নেফ্রো-টক্সিসিটির উপরে থেরাপিউটিক ইফেক্ট আছে।[১৫]
এবার ধরেন, আপনার স্ত্রী আপনার সাথে রাগ করে অনেকগুলো প্যারাসিট্যামল খেয়েছে। এবং আপনি জানেন যে, কালোজিরা খেলে উপকার হবে। তাহলে আপনি তাকে হাসপাতালে আনবেন নাকি কালোজিরা খাওয়াবেন?”
“কালোজিরা খাওয়াবেন!”😂😂
কালোজিরা খাওয়ালে খাওয়াবেন। কিন্তু আগে হাঁসপাতালে নিয়ে যাবেন। কারণ এগুলো আমি আপনাকে কালোজিরার উপর করা কিছু গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের কথা বলছি। এখনো এগুলো দিয়ে ট্রিটমেন্ট প্লান তৈরি হয়নি। এগুলোর উপকার আছে। কিন্তু কোথাও কতটুকু ব্যবহার করতে হবে সেটা এখনো গবেষণা বিষয়। হয়ত আমরা ভবিষ্যতে দেখতে পাবো।”
#⃣“কালোজিরা খেলে কি হাঁপানি রোগ ভাল হয়?”#⃣
“হাঁপানি রোগকে মেডিকেল সাইন্সের ভাষায় ‘এজমা’ বলে। এটি এমন একটি রোগ যা ডায়াবেটিকস বা প্রেশারের মতোই নিরাময় সম্ভব নয়। এই রোগ গুলো কন্ট্রোল করতে হয়। সে কন্ডিশনে এজমাটিক অ্যাটাক হয়, সেই কন্ডিশন এভোয়েড করলেই এজমা কন্ট্রোলে থাকে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও এজমার নিরাময় বের করতে পারেনি। আসলে এটা নরমালি সম্ভবও নয়। কারণ এটি ইমিউন মেডিয়েটেড হাইপারসেন্সিটিভিটির কারণে হয়। যাই হোক, এজমার রোগীদের শ্বাসনালীর পেশী সঙ্কুচিত হইয়ে যায়। এজন্য শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়। আমরা মেডিসিনের মাধ্যমে শ্বাসনালীর পেশীর সঙ্কোচন কমিয়ে দেই। এটাই আপাতত এই রোগের ট্রিটমেন্ট। এক গবেষণায় দেখা গেছে কালোজিরার নির্যাস শ্বাসনালীর পেশীর সঙ্কোচন কমায়।[১৬] আরেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এজমায় ব্যবহৃত স্টেরয়েড থেকে কালোজিরায় উপস্থিত থাইমোকুইনোন বেশি উপযোগী। কারণ, এর এন্টি-ইনফ্লামেটরি ইফেক্ট আছে।[১৭] এছাড়াও মস্তিস্কের রক্তাল্পতা, ব্যথা, খিঁচুনি, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ ইত্যাদিতে কালোজিরা উপকারী।[১৮]”
#⃣কালোজিরা আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করে।#⃣
এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কালোজিরা সেবনে প্রতিরক্ষার জন্য নির্ধারিত কোষ গুলোর পরিমাণ বাড়ে।[১৯] সুতরাং, কালোজিরার উপাদান আমাদের দেহের ইমিউনিটি বাড়ায়। আমাদের ইমিউনিটি যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে আমরা তেমন রোগাক্রান্ত হব না।দেখেন কালোজিরা কত কাজ করে দেখেছেন? সুতরাং, কার্যকারিতার আধিক্যের কারণে সাহিত্যের মতো করে একে ‘সকল রোগের ঔষধ মৃত্যু ব্যতীত’- বলাটা কি খুব অন্যায়?[২০]”
আপত্তি তুলতে পারেন,
#⃣“একই ড্রাগের যদি বিপরীতধর্মী কাজ থাকে, তাহলে তো সেখান থেকে উপকার পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কিভাবে কাজ করবে?”#⃣
“একটি ড্রাগের বিপরীতধর্মী ইফেক্ট থাকলেই যে সেটা ক্ষতিকর-ব্যাপারটা এমন নয়। বিপরীতধর্মী ইফেক্ট উপকারী বা অপকারী দুই ধরণেরই হতে পারে।[২০.১] এছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ এই হাদিসে সকল রোগের নিরাময়ের কথা বলেননি। যদি এটাই তিনি বোঝাতেন, তাহলে বিভিন্ন রোগে তিনি বিভিন্ন উপাদান দিয়ে চিকিৎসা করাতে বলতেন না। রাসূলে’র ﷺ চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ইমাম ইবনে কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ (রহঃ) 'তিব্বে নববি' নামক একটি বই লিখেছেন। এর ইংরেজি অনুবাদও রয়েছে। আপনি চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। রাসূলুল্লাহ'র ﷺ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে ট্রিটমেন্টের হাদিসগুলো বইটিতে বিস্তারিত রয়েছে। সুতরাং, বিভিন্ন রোগের ট্রিটমেন্ট বিভিন্ন জিনিস দিয়ে দেওয়ার কারণে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, হাদিসটিতে 'সকল রোগের ঔষধ' কথাটি ব্যাপক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ কালোজিরার কার্যক্ষমতার আধিক্যের কারণেই এর গুরুত্ব বোঝাতে কথাটি বলেছিলেন। আশাকরি বুঝেছেন।”
#⃣“তাহলে এটা দিয়ে ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানিগুলো কেন ঔষধ তৈরি করে না?”#⃣
“আপনার হয়ত জানা নেই একটি মেডিসিন কিভাবে বাজারে আসে। প্রথমে কোন ড্রাগ কম্পোনেন্ট আবিষ্কৃত হলে ড্রাগটি কিভাবে কাজ করে, কোথায় কি কাজ করে, কিভাবে কাজ করে তার তথ্য একত্র করা হয়। এরপরে এটা বিভিন্ন প্রাণিতে পরীক্ষা করা হয়। প্রাণিতে ব্যবহারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকলে সেটা নোট করা হয়। এঁকে বলা হয় প্রি-ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট। এরপরে ড্রাগটি ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’-এর জন্য প্রস্তুত হয়, যদি ড্রাগের প্রচুর ক্ষতিকর কোন সাইড ইফেক্ট না থাকে।[২১] ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে, ড্রাগটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে একজন ফার্মাসিস্টের তত্ত্বাবধায়নে কিছু মানুষের উপর টেস্ট করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে, ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে একটি প্রতিষ্ঠানে কিছু মানুষের উপর টেস্ট করা হয়। তৃতীয় ধাপে, কিছু ডাক্তারে তত্ত্বাবধায়নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের উপর টেস্ট করা হয়। ড্রাগটি এতগুলো ধাপ অতিক্রম করে যদি বাজারজাতকরণের উপযুক্ত হয় তখন ড্রাগটি মেডিসিন হিসেবে পরীক্ষামূলক ভাবে বাজারে ছাড়া হয়। দীর্ঘ সময় অবজার্ভেশনের পরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে ড্রাগটি মেডিসিন হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[২২] আর এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ৪-৬ বছর লেগে যায়।[২৩] কালোজিরা থেকে প্রাপ্ত ড্রাগ থাইমোকুইনোন বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে। আপনি চাইলে ‘PubMed Journal’ –এ থাইমোকুইনোনের কেমিক্যাল ডাটাবেস দেখতে পারেন।[২৪] ‘Journal Of Pharmacopuncture’-নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল সন্তোষজনক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও বড় পরিসরে স্ট্যাডি করা দরকার।[২৫] সুতরাং, স্ট্যাডি সম্পূর্ণ শেষ হলেই আপনি মেডিসিনটি বাজারে পাবেন, আলহামদুলিল্লাহ্।
আসুন আমরা মুসলিমরা আর দেরি না করে আসুন কালোজিরা খাই!! প্রীয় ব্যাক্তির অভ্যাস নিজেদের মধ্যে ধারণ করি,“যে ব্যক্তি একটি ভুলে যাওয়া সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করবে, সে ওই ব্যক্তির কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে, যেটা উক্ত ব্যক্তি তাকে দেখে করেছে। এবং এতে শেষের ব্যক্তিটির প্রতিদান বিন্দুমাত্র কমে যাবে না।[২৬]”
আশাকরি আজকের আলোচনা বুঝেছেন। আর আজকের পর থেকে এরকম খোটা দেওয়াটা বন্ধ করবেন। আরেকটা ব্যাপার মনে রাখবেন যে, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও কালোজিরার এই গুণাগুণগুলো সাইন্টিফিক্যালি প্রমাণিত ছিল না। তখন আমাকে আপনি জিজ্ঞাসা করলেও আমি প্রমান সহকারে উত্তর দিতে পারতাম না। কিন্তু এখন সেটা আমি পেরেছি। কারণ আমার কাছে উপযুক্ত তথ্য ছিল। সুতরাং, বিজ্ঞান কিন্তু ধীরে ধীরে আগাচ্ছে। তাহলে বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্য- যা প্রতিনিয়ত চেইঞ্জ হয় বা নতুন তথ্য যোগ করে, সেটা দিয়ে যদি একটি কন্সট্যান্ট ধর্মকে যাচাই করে ভুল বের করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই, যদি সত্যিই জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে যারা জানে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবেন। তাহলে অন্তত এভাবে কলা বিজ্ঞানী হতে হবে না! হা হা”
(সম্পূর্ণ ইনফরমেশন Ashraful Alam ভাইয়ের অ্যান্টিডোট বই থেকে সংগৃহীত। জাজাকাল্লাহ।)
পোষ্টটি পুনঃনিরীক্ষণের জন্যে
Nayan Chowdhury Muhammad Mushfiqur Rahman Minar Shohel Rana Sheikh Lazim Mohammad Abdul Mabud Saddam Hossain Pavel ভাইদেরকে।jajakumullahu।
তথ্যসূত্র ও গ্রন্থাবলিঃ
1⃣https://islamqa.info/en/2438
2⃣The Pharmacological Basis Of Therapeutics(Goodman and Gilman); 12th edition; Page: 1005-1027
3⃣সহিহ বুখারী; অধ্যায়ঃ চিকিৎসা; হাদিস নং- ৫৬৮৮/ আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৭৭/ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৩
4⃣লিসান আল আরব; খন্ডঃ ০৭; পৃষ্ঠাঃ ৭১৮
5⃣সহিহ বুখারী(মূল আরবি ছাপা); খন্ডঃ ০২; পৃষ্ঠাঃ ৮৪৯; টীকাঃ ০২
5⃣.1⃣https://islamqa.info/en/154257
6⃣লিসান আল আরব; খন্ডঃ ০৫; পৃষ্ঠাঃ ১৫১
7⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0006295211003637
http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S0378427413012903
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
8⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0027510714000888
9⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
🔟https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S1756464615003266
1⃣1⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
1⃣2⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S0944501316304475
1⃣3⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1110093114000192
1⃣4⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1567576915300011
1⃣5⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1743919114009807
1⃣6⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/20149611
1⃣7⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19711253
1⃣8⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
1⃣9⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/15850137?dopt=Abstract
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16734144?dopt=Abstract
2⃣0⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0378874116304214
https://www.sciencedirect.com/…/artic…/pii/S104366181500050X
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
https://imed.pub/ojs/index.php/iam/article/view/1863/1320
2⃣0⃣.1⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/22272687
2⃣1⃣Basic and Clinical Pharmacology by Bertram G. Katzung; Page: 70(12th ed)
2⃣2⃣Rang and Dale's Pharmacology; Page: 781-784(6th ed.)
2⃣3⃣Basic and Clinical Pharmacology by Bertram G. Katzung; Page: 74(12th ed)
2⃣4⃣https://pubchem.ncbi.nlm.nih.gov/compound/Thymoquinone#section=Top
2⃣5⃣http://www.journal.ac/sub/view/223
2⃣6⃣সুনান আত-তিরমিজি; হাদিসটি হাসান।
*কালোজিরা!কালোজিরা!! কালোজিরা!!!😊😊😉😉😉😉মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের প্রতিষেধক!
“মোহাম্মাদ তো বলেছেই যে, কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ।যাদের ক্যান্সার এবং সাথে হার্টের রোগ আছে, সেহেতু কালোজিরা খেলেই তো আর কোন চিকিৎসার দরকার হয়না।”
“কালোজিরা যেহেতু সকল রোগের ঔষধ। তাই কালোজিরাতেও ক্যান্সার ঠিক হবার কথা।কিন্তু আসলে হচ্ছে কি??"
বিশ্লেষন:কিছু বিপরীতধর্মী রোগ আছে। যেমন- উচ্চ-রক্তচাপ এবং নিম্ন-রক্তচাপ। এরা একে অপরের বিপরীত অবস্থা। উচ্চ-রক্তচাপে এমন ঔষধ দেওয়া হয় যা ব্লাড প্রেশার কমায়। এদের বলা হয় এন্টি-হাইপারটেনসিভ ড্রাগ। পক্ষান্তরে নিম্ন-রক্তচাপে এমন ঔষধ দেওয়া হয় যা ব্লাড প্রেশার বাড়ায়। এদের বলা হয় এন্টি-হাইপোটেনসিভ ড্রাগ। উচ্চ-রক্তচাপ আছে, এমন ব্যক্তিকে যদি এন্টি-হাইপোটেনসিভ ড্রাগ দেওয়া হয়, তাহলে তার প্রেশার আরও বৃদ্ধি পেয়ে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিসে ভুগবে। একইভাবে, নিম্ব-রক্তচাপ আছে, এমন ব্যক্তিকে যদি এন্টি-হাইপারটেনসিভ ড্রাগ দেওয়া হয়, তবে তার প্রেশার ক্রমশ নেমে Shock-এ চলে যেতে পারে। এভাবে ডায়রিয়া-কোষ্ঠকাঠিন্য, হাইপোথাইরয়ডিজম-হাইপারথাইরয়ডিজম ইত্যাদি সহ পরস্পর বিপরীতধর্মী সকল অসুখের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। সুতরাং, একই ঔষধ কখনো পরস্পর বিপরীতধর্মী উভয় অসুখে ব্যবহার করা যাবে না। এই সূত্র অনুযায়ী, কালোজিরাসহ যে কোন কিছুই একই সাথে পরস্পর বিপরীতধর্মী দুটো অসুখে ব্যবহার করা যাবে না। সুতরাং ‘মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের ঔষধ কালোজিরা - নবী মোহাম্মদের এমন দাবি সম্পূর্ণই মিথ্যে বা ভুয়া”
#⃣ হাদীসের কুল্লুন শব্দের অৰ্থ।মৃত্যু কোন রোগ?#⃣
“আপনাদের সমস্যা আছে। যেখানে সমস্যা আছে সেটা হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কালোজিরা সকল রোগের ঔষধ, মৃত্যু ব্যতীত।[৩] এখানে সকল শব্দটি আরবি যে শব্দের অনুবাদ, সেটি হলো- কুল্লুন(كُلٌّ )। প্রখ্যাত এরাবিক ডিকশনারি লিসান আল আরবে আছে যে, ‘কুল্লুন(كُلٌّ )’ শব্দটির অর্থ ‘সকল’ বা কোন কোন ক্ষেত্রে ‘কিছু’ অর্থাৎ ‘مَعَنَى الْبَعَضْ’।[৪] আবার আল-ফিকহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ নামক একটি গ্রন্থে বলা হয়েছে, এখানে ‘কুল্লুন’ শব্দটি ‘আধিক্য’ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে। সহিহ বুখারীর এই হাদিসের টীকায় বলা আছে, যদিও এই হাদিসে ‘مِنْ كُلِّ دَاءٍ’ বা ‘সকল রোগের ঔষধ’ কথাটি ‘ব্যাপক’ কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য ‘খাস’ বা ‘নির্দিষ্ট’।[৫] তাহলে বোঝা যাচ্ছে যে, এই হাদিসে ‘সকল রোগের ঔষধ’ বলতে একদম পৃথিবীতে যত রোগ আছে, সকল রোগের ঔষধের কথা বলা হয়নি বরং নির্দিষ্ট প্রকারের বিভিন্ন রোগের কথা বলা হয়েছে। এটাই অধিকাংশ আলিমদের মত।[৫.১] আর কুর’আন এবং হাদিসের আমি বা আপনি নিজের মতো করে পড়ে অর্থ বুঝলে হবেনা। আমাদের পূর্ববর্তী ‘আলিমগণ বা সালাফরা যেভাবে বুঝেছেন সেভাবেই বুঝতে হবে। কিন্তু এই কালোজিরা যেহেতু অনেক ধরনের রোগের ঔষধ বা নিরাময়,[৬] সেহেতু জোর দিয়ে বুঝাতে ‘মৃত্যু ব্যতীত’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ আপনি জানেন যে, মৃত্যু কোন রোগ নয়।”
যেমন ধরুন,“আপনার/আমার বাপ্পি নামের এক ফ্রেন্ড। ও এত পরিমাণ খায় যে আমরা বলতাম, ‘বাপ্পি পলিথিন বাদে সব খায়।’ কিন্তু আসলে কিন্তু ও লোহা বা খাবারের মধ্যেই অনেক কিছুই খেত না। কিন্তু তবুও আমরা বলি। সুতরাং, আমরা ‘সব’ শব্দটি অনেকসময় আধিক্য বুঝাতে ব্যবহার করি। এই হাদিসেও ‘কুল্লুন’ শব্দটির অর্থ একদম ডেফিনেটলি ‘সকল’ বুঝায় নাই।”
🎲🎲সিদ্ধান্ত:
আরবীতে কুললুন শব্দের একাধিক অর্থের ব্যাবহার আছে।সুতরাং এক অর্থের উপর ভিত্তি করে ভুল বলাটা বোকামি।
#⃣#⃣অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন এত এত কিছু উপকার থাকার পরও কেন মুসলিমরা চিকিৎসা গ্রহণ করেনি??#⃣#⃣
“কখনো হকারের কাছ থেকে লাল লাল ট্যাবলেট কিনেছেন? যেটা ওরা সব রোগের ঔষধ বলে বিক্রি করে! ভিজিটও লাগে না। আর ঐ ট্যাবলেট খেলেই সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা সব জাদুর মতো ঠিক হয়ে যায়।”
কিন্তু অন্যদিকে আপনার দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের শরীরে যখন কোন জীবাণু প্রবেশ করে তখন আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। তখন সর্দি, কাশি বা জ্বর আসতে পারে। আপনি যে লাল ট্যাবলেট গুলো মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার করেন, সেগুলোতে স্টেরয়েড নামক একটি পদার্থ থাকে। এটি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘটনাগুলো বন্ধ করে দেয়। এজন্য আপনার সর্দি, কাশি হয় না। আর এটি ব্যথা সৃষ্টিকারী একটি কেমিক্যাল বা প্রোস্টাগ্লান্ডিনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। এজন্য আপনি ব্যথাও অনুভব করেন না। জীবাণুর প্রতি আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এমন প্রতিক্রিয়ার কারণে অনেক রোগ হয়। তখন স্টেরয়েড দিয়ে এই প্রতিক্রিয়া বন্ধ করে দিলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এজন্য ডাক্তাররা অনেক রোগের লাস্ট লাইন ট্রিটমেন্ট হিসেবে স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। প্রথমে ব্যবহার করেন না। কারণ স্টেরয়েড বহুদিন ব্যবহারে আমাদের দেহের প্রচুর ক্ষতি হয়। যেহেতু এটি প্রচুর রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, তাই একেও সকল রোগের ঔষধ বলে চালানো হয়।[২] কিন্তু তাই বলে পৃথিবীতে যত রোগ আছে, স্টেরয়েড যে সব ঠিক করে দিবে এমন নয়। স্টেরয়েডের কার্যক্ষমতার আধিক্যের কারণেই এমন বলা হয়।"
#⃣#⃣কালোজিরা এমন কি জিনিস যে বিপুল পরিমাণ রোগ ভাল হবে? সর্দি-কাশি ছাড়া আর কিছু ভাল হয় বলে তো মনে হয় না।”#⃣#⃣
“তাহলে আসেন প্রথমে ক্যান্সারের ট্রিটমেন্টে কালোজিরার উপকারিতা আলোচনা করি। ক্যান্সার বলতে সাধারণত একটি কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন এবং এবং অন্যত্র ছড়িয়ে পড়া বা মেটাস্ট্যাসিসকে বুঝায়। যদি কোন উপাদান যদি কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন এবং মেটাস্ট্যাসিস বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে সেটাই ক্যান্সারের জন্য উপকারী ঔষধ।
ইচ্ছে “ইসলাম তো চিকিৎসা করাতে নিষেধ করে না। বরং আরও উদ্বুদ্ধ করে। আধুনিক চিকিৎসা করাতেও নিষেধ নেই।[১]
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কালোজিরাতে থাইমোকুইনোন নামক একটি উপাদান রয়েছে যেটি একটি ক্যান্সার কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজন এবং মেটাস্ট্যাসিস বন্ধ করে। সাথে সাথে এটি এপোপটোসিস প্রক্রিয়ার ক্যান্সার কোষটিকে নষ্ট করতেও সাহায্য করে।[৭] বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, এই থাইমোকুইনোন এবং এর অনুরূপ কেমিক্যাল ভবিষ্যতে অন্যান্য কেমোথেরাপিক ড্রাগের সাথে তারা ব্যবহার করতে পারবেন।[৮]
#⃣#⃣রাসূলুল্লাহ ﷺ কি তাহলে কালোজিরা খেতে বলে ভুল করেছেন?”#⃣#⃣
“গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে, কালোজিরার থাইমোকুইনোন উপাদানটি ব্লাড প্রেশার কমায়। আবার বিভিন্ন হার্টের রোগেও থাইমোকুইনোনের কার্যকারিতা রয়েছে।[৯] আপনি কি জানেন যে, পৃথিবীতে প্রায় ৩৪৭ মিলিয়ন মানুষের ডায়াবেটিকস আছে এবং এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। আমাদের দেহে ‘অগ্নাশয়’ নামক একটি অঙ্গ আছে। অগ্নাশয়ে ‘বিটা কোষ’ নামক কিছু কোষ আছে। এই কোষ থেকে ‘ইনসুলিন’ নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিকস দুই ধরনের। টাইপ ১ এবং টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়াবেটিকস হয় বিটা কোষ নষ্ট হয়ে গেলে। এক্ষেত্রে বিটা কোষ ইনসুলিন নিঃসরণ করতে পারে না। তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। আবার টাইপ ২ ডায়াবেটিকস হলে বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ ঠিক থাকে কিন্তু কোষে ইনসুলিন ঠিকমতো ঢুকতে পারেনা। এজন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও কমে না। ধারণা করা হয়, অনেক কারণের মধ্যে এটিও একটি কারণ যে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে অগ্নাশয়ের বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যেতে পারে বা বিটা কোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তখন টাইপ ১ ডায়াবেটিকস হয়। এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কালোজিরায় উপস্থিত থাইমোকুইনোন এন্টি আক্সিডেন্টের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এতে টাইপ ১ ডায়াবেটিসের আশংকা কমে যায়।[১০] আবার টাইপ ২ ডায়াবেটিকস এর ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে, সাধারণ ঔষধ থেকে কালোজিরার কর্মক্ষমতা বেশি।[১১] তাহলে রাসূলুল্লাহ ﷺ কি কালোজিরা খেতে বলে ভুল করেছিলেন?”
“পৃথিবীতে বর্তমানে ভাইরাস, ছত্রাক, ইস্ট বা ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ঘটে, এমন রোগের সংখ্যা অসংখ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কালোজিরায় উপস্থিত উপাদান গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, ইস্ট ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অনিয়ন্ত্রিত এন্টিবায়োটিক সেবনের ফলে খুব দ্রুত এন্টিবায়োটিক তার কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, কালোজিরার থাইমোকুইনোন পরবর্তীতে এন্টিবায়োটিক হিসেবে তারা ব্যবহার করতে পারবেন।[১২] আবার কিডনির বিভিন্ন সমস্যায় থাইমোকুইনোনের উপকারিতা পাওয়া গিয়েছে।[১৩] এছাড়াও প্রদাহজনিত প্রচুর সমস্যায় থাইমোকুইনোন উপকারী, যেটা কালোজিরায় থাকে।[১৪] অধিক পরিমাণ প্যারাসিট্যামল একবারে খেলে এর নেফ্রো-টক্সিসিটি হয়। কালোজিরায় উপস্থিত উপাদান থাইমোকুইনোনের নেফ্রো-টক্সিসিটির উপরে থেরাপিউটিক ইফেক্ট আছে।[১৫]
এবার ধরেন, আপনার স্ত্রী আপনার সাথে রাগ করে অনেকগুলো প্যারাসিট্যামল খেয়েছে। এবং আপনি জানেন যে, কালোজিরা খেলে উপকার হবে। তাহলে আপনি তাকে হাসপাতালে আনবেন নাকি কালোজিরা খাওয়াবেন?”
“কালোজিরা খাওয়াবেন!”😂😂
কালোজিরা খাওয়ালে খাওয়াবেন। কিন্তু আগে হাঁসপাতালে নিয়ে যাবেন। কারণ এগুলো আমি আপনাকে কালোজিরার উপর করা কিছু গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ফলাফলের কথা বলছি। এখনো এগুলো দিয়ে ট্রিটমেন্ট প্লান তৈরি হয়নি। এগুলোর উপকার আছে। কিন্তু কোথাও কতটুকু ব্যবহার করতে হবে সেটা এখনো গবেষণা বিষয়। হয়ত আমরা ভবিষ্যতে দেখতে পাবো।”
#⃣“কালোজিরা খেলে কি হাঁপানি রোগ ভাল হয়?”#⃣
“হাঁপানি রোগকে মেডিকেল সাইন্সের ভাষায় ‘এজমা’ বলে। এটি এমন একটি রোগ যা ডায়াবেটিকস বা প্রেশারের মতোই নিরাময় সম্ভব নয়। এই রোগ গুলো কন্ট্রোল করতে হয়। সে কন্ডিশনে এজমাটিক অ্যাটাক হয়, সেই কন্ডিশন এভোয়েড করলেই এজমা কন্ট্রোলে থাকে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও এজমার নিরাময় বের করতে পারেনি। আসলে এটা নরমালি সম্ভবও নয়। কারণ এটি ইমিউন মেডিয়েটেড হাইপারসেন্সিটিভিটির কারণে হয়। যাই হোক, এজমার রোগীদের শ্বাসনালীর পেশী সঙ্কুচিত হইয়ে যায়। এজন্য শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়। আমরা মেডিসিনের মাধ্যমে শ্বাসনালীর পেশীর সঙ্কোচন কমিয়ে দেই। এটাই আপাতত এই রোগের ট্রিটমেন্ট। এক গবেষণায় দেখা গেছে কালোজিরার নির্যাস শ্বাসনালীর পেশীর সঙ্কোচন কমায়।[১৬] আরেক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এজমায় ব্যবহৃত স্টেরয়েড থেকে কালোজিরায় উপস্থিত থাইমোকুইনোন বেশি উপযোগী। কারণ, এর এন্টি-ইনফ্লামেটরি ইফেক্ট আছে।[১৭] এছাড়াও মস্তিস্কের রক্তাল্পতা, ব্যথা, খিঁচুনি, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ ইত্যাদিতে কালোজিরা উপকারী।[১৮]”
#⃣কালোজিরা আমাদের দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করে।#⃣
এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কালোজিরা সেবনে প্রতিরক্ষার জন্য নির্ধারিত কোষ গুলোর পরিমাণ বাড়ে।[১৯] সুতরাং, কালোজিরার উপাদান আমাদের দেহের ইমিউনিটি বাড়ায়। আমাদের ইমিউনিটি যদি বৃদ্ধি পায় তাহলে আমরা তেমন রোগাক্রান্ত হব না।দেখেন কালোজিরা কত কাজ করে দেখেছেন? সুতরাং, কার্যকারিতার আধিক্যের কারণে সাহিত্যের মতো করে একে ‘সকল রোগের ঔষধ মৃত্যু ব্যতীত’- বলাটা কি খুব অন্যায়?[২০]”
আপত্তি তুলতে পারেন,
#⃣“একই ড্রাগের যদি বিপরীতধর্মী কাজ থাকে, তাহলে তো সেখান থেকে উপকার পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে কিভাবে কাজ করবে?”#⃣
“একটি ড্রাগের বিপরীতধর্মী ইফেক্ট থাকলেই যে সেটা ক্ষতিকর-ব্যাপারটা এমন নয়। বিপরীতধর্মী ইফেক্ট উপকারী বা অপকারী দুই ধরণেরই হতে পারে।[২০.১] এছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ এই হাদিসে সকল রোগের নিরাময়ের কথা বলেননি। যদি এটাই তিনি বোঝাতেন, তাহলে বিভিন্ন রোগে তিনি বিভিন্ন উপাদান দিয়ে চিকিৎসা করাতে বলতেন না। রাসূলে’র ﷺ চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে ইমাম ইবনে কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ (রহঃ) 'তিব্বে নববি' নামক একটি বই লিখেছেন। এর ইংরেজি অনুবাদও রয়েছে। আপনি চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। রাসূলুল্লাহ'র ﷺ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জিনিস দিয়ে ট্রিটমেন্টের হাদিসগুলো বইটিতে বিস্তারিত রয়েছে। সুতরাং, বিভিন্ন রোগের ট্রিটমেন্ট বিভিন্ন জিনিস দিয়ে দেওয়ার কারণে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, হাদিসটিতে 'সকল রোগের ঔষধ' কথাটি ব্যাপক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ কালোজিরার কার্যক্ষমতার আধিক্যের কারণেই এর গুরুত্ব বোঝাতে কথাটি বলেছিলেন। আশাকরি বুঝেছেন।”
#⃣“তাহলে এটা দিয়ে ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানিগুলো কেন ঔষধ তৈরি করে না?”#⃣
“আপনার হয়ত জানা নেই একটি মেডিসিন কিভাবে বাজারে আসে। প্রথমে কোন ড্রাগ কম্পোনেন্ট আবিষ্কৃত হলে ড্রাগটি কিভাবে কাজ করে, কোথায় কি কাজ করে, কিভাবে কাজ করে তার তথ্য একত্র করা হয়। এরপরে এটা বিভিন্ন প্রাণিতে পরীক্ষা করা হয়। প্রাণিতে ব্যবহারে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকলে সেটা নোট করা হয়। এঁকে বলা হয় প্রি-ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট। এরপরে ড্রাগটি ‘ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল’-এর জন্য প্রস্তুত হয়, যদি ড্রাগের প্রচুর ক্ষতিকর কোন সাইড ইফেক্ট না থাকে।[২১] ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে, ড্রাগটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিতে একজন ফার্মাসিস্টের তত্ত্বাবধায়নে কিছু মানুষের উপর টেস্ট করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে, ডাক্তারের তত্ত্বাবধায়নে একটি প্রতিষ্ঠানে কিছু মানুষের উপর টেস্ট করা হয়। তৃতীয় ধাপে, কিছু ডাক্তারে তত্ত্বাবধায়নে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের উপর টেস্ট করা হয়। ড্রাগটি এতগুলো ধাপ অতিক্রম করে যদি বাজারজাতকরণের উপযুক্ত হয় তখন ড্রাগটি মেডিসিন হিসেবে পরীক্ষামূলক ভাবে বাজারে ছাড়া হয়। দীর্ঘ সময় অবজার্ভেশনের পরে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে ড্রাগটি মেডিসিন হিসেবে স্বীকৃতি পায়।[২২] আর এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ৪-৬ বছর লেগে যায়।[২৩] কালোজিরা থেকে প্রাপ্ত ড্রাগ থাইমোকুইনোন বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে আছে। আপনি চাইলে ‘PubMed Journal’ –এ থাইমোকুইনোনের কেমিক্যাল ডাটাবেস দেখতে পারেন।[২৪] ‘Journal Of Pharmacopuncture’-নামক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল সন্তোষজনক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরও বড় পরিসরে স্ট্যাডি করা দরকার।[২৫] সুতরাং, স্ট্যাডি সম্পূর্ণ শেষ হলেই আপনি মেডিসিনটি বাজারে পাবেন, আলহামদুলিল্লাহ্।
আসুন আমরা মুসলিমরা আর দেরি না করে আসুন কালোজিরা খাই!! প্রীয় ব্যাক্তির অভ্যাস নিজেদের মধ্যে ধারণ করি,“যে ব্যক্তি একটি ভুলে যাওয়া সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করবে, সে ওই ব্যক্তির কৃতকর্মের প্রতিদান পাবে, যেটা উক্ত ব্যক্তি তাকে দেখে করেছে। এবং এতে শেষের ব্যক্তিটির প্রতিদান বিন্দুমাত্র কমে যাবে না।[২৬]”
আশাকরি আজকের আলোচনা বুঝেছেন। আর আজকের পর থেকে এরকম খোটা দেওয়াটা বন্ধ করবেন। আরেকটা ব্যাপার মনে রাখবেন যে, আজ থেকে কয়েক বছর আগেও কালোজিরার এই গুণাগুণগুলো সাইন্টিফিক্যালি প্রমাণিত ছিল না। তখন আমাকে আপনি জিজ্ঞাসা করলেও আমি প্রমান সহকারে উত্তর দিতে পারতাম না। কিন্তু এখন সেটা আমি পেরেছি। কারণ আমার কাছে উপযুক্ত তথ্য ছিল। সুতরাং, বিজ্ঞান কিন্তু ধীরে ধীরে আগাচ্ছে। তাহলে বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্য- যা প্রতিনিয়ত চেইঞ্জ হয় বা নতুন তথ্য যোগ করে, সেটা দিয়ে যদি একটি কন্সট্যান্ট ধর্মকে যাচাই করে ভুল বের করার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই, যদি সত্যিই জানার ইচ্ছা থাকে তাহলে যারা জানে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবেন। তাহলে অন্তত এভাবে কলা বিজ্ঞানী হতে হবে না! হা হা”
(সম্পূর্ণ ইনফরমেশন Ashraful Alam ভাইয়ের অ্যান্টিডোট বই থেকে সংগৃহীত। জাজাকাল্লাহ।)
পোষ্টটি পুনঃনিরীক্ষণের জন্যে
Nayan Chowdhury Muhammad Mushfiqur Rahman Minar Shohel Rana Sheikh Lazim Mohammad Abdul Mabud Saddam Hossain Pavel ভাইদেরকে।jajakumullahu।
তথ্যসূত্র ও গ্রন্থাবলিঃ
1⃣https://islamqa.info/en/2438
2⃣The Pharmacological Basis Of Therapeutics(Goodman and Gilman); 12th edition; Page: 1005-1027
3⃣সহিহ বুখারী; অধ্যায়ঃ চিকিৎসা; হাদিস নং- ৫৬৮৮/ আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৭৭/ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৭৩
4⃣লিসান আল আরব; খন্ডঃ ০৭; পৃষ্ঠাঃ ৭১৮
5⃣সহিহ বুখারী(মূল আরবি ছাপা); খন্ডঃ ০২; পৃষ্ঠাঃ ৮৪৯; টীকাঃ ০২
5⃣.1⃣https://islamqa.info/en/154257
6⃣লিসান আল আরব; খন্ডঃ ০৫; পৃষ্ঠাঃ ১৫১
7⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0006295211003637
http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S0378427413012903
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
8⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0027510714000888
9⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
🔟https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S1756464615003266
1⃣1⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4387232/
1⃣2⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
http://www.sciencedirect.com/…/article/pii/S0944501316304475
1⃣3⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1110093114000192
1⃣4⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1567576915300011
1⃣5⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S1743919114009807
1⃣6⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/20149611
1⃣7⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19711253
1⃣8⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
1⃣9⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/15850137?dopt=Abstract
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16734144?dopt=Abstract
2⃣0⃣http://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0378874116304214
https://www.sciencedirect.com/…/artic…/pii/S104366181500050X
https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3642442/
https://imed.pub/ojs/index.php/iam/article/view/1863/1320
2⃣0⃣.1⃣https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/22272687
2⃣1⃣Basic and Clinical Pharmacology by Bertram G. Katzung; Page: 70(12th ed)
2⃣2⃣Rang and Dale's Pharmacology; Page: 781-784(6th ed.)
2⃣3⃣Basic and Clinical Pharmacology by Bertram G. Katzung; Page: 74(12th ed)
2⃣4⃣https://pubchem.ncbi.nlm.nih.gov/compound/Thymoquinone#section=Top
2⃣5⃣http://www.journal.ac/sub/view/223
2⃣6⃣সুনান আত-তিরমিজি; হাদিসটি হাসান।

